ঈদের আগে আর খুলছেনা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর

স্কুল-কলেজ খুলবে ঈদের পর, ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর। সিদ্ধান্ত আগামীকালের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে। … এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে জানিয়েছিলেন, ৩০ মার্চ দেশের সব স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হবে।

কিন্তু দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার বেড়ে যাওয়ায় আগামী ৩০ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি এরকম থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মত অন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ঈদের পর মে মাসে খুলতে পারে। শুক্রবারের মধ্যে জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে সে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

images 16 4
ছবি সংগৃহীত

ঢাকায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত ‘গণহত্যা দিবসের’ আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রীর সাংবাদিকদের প্রশ্নে এই উত্তর আসে।
তিনি বলেন,সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী, অভিভাবক- সকলের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তার দিকেই ।

আমাদের দেশে সংক্রমণ যেভাবে কমে গিয়েছিল, আমরা তাতে খুব আশাবাদী হয়েছিলাম যে আমরা আমাদের মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দিতে পারব এবং পর্যায়ক্রমে আমরা খুলব। কিন্তু হঠাৎ করেই শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বে যে নতুন ঢেউ এসেছে, তাতে আমাদের এখানেও গত কয়দিনে সংক্রমণের হার বেড়েছে খুব দ্রুততার সঙ্গে। বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও ।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কবে নাগাদ খোলার পরিকল্পনা রয়েছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে দীপু মনি বলেন, ৩০ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে এবং জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বৃহস্পতিবারই।

“আগামীকালের মধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত জানাতে পারব বলে আশা করছি। আর এই মুহূর্তে যেটুকু বলতে পারি যে, বিশ্ববিদ্যালয় আমরা যেহেতু ঈদের পরে খুলছি , আমাদের এই মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক হয়ত বা সেই সময়ের কাছাকাছি নিয়ে যেতে হবে। কারণ অবশ্যই আমরা চাই, আমাদের কেউ যেন সংক্রমিত না হয়।”

মহামারীর শুরুতে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয় গত বছরের ১৭ মার্চ। কিন্তু ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি না হওয়ায় এইচএসসির পাশাপাশি পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনী এবং কোনো ক্লাসের বার্ষিক পরীক্ষাও নেওয়া যায়নি।

আর সংক্রমণের হার এ বছরের শুরুর দিকে কমে এলে শুরু হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ৩০ মার্চ স্কুল ও কলেজ খোলার তারিখ ঠিক করেছে সরকার।

এছাড়া তার আগেই সিদ্ধান্ত জানানো হয় রোজার ঈদের পর ২৪ মে থেকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার কথা। কিন্তু মার্চের শুরু থেকে দেশে সংক্রমণের হার আবার বাড়ছে এবং দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে সাড়ে তিন হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতিতে সরকারকেও নতুন করে স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।
সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে ডা. দীপু মনি বলেন, “সবাই যেন মাস্ক পরিধান করি এবং সবাই যেন নিরাপদ দূরত্ব রাখি। কারণ এই সংক্রমণ কমানোর এটিই একমাত্র উপায়।”

Reply