একটি রোমান্টিক ভালোবাসার কাহিনী

বিভোরকে আমি এতটাই ভালবাসি যে,আমার ভালবাসাটা প্রমাণ করার জন্য আমি সেদিন কোন কিছু চিন্তা না করেই চোখ মুখ বন্ধ করে ব্রিজ থেকে লাফিয়ে পড়েছিলাম।অথচ এর পর কি হবে তা আমার ধ্যানেও ছিলোনা। বিভোর আর আমি একই এলাকার। আমাদের বাসা থেকে ওদের বাসা অল্প একটু দূরে।

আমাদের এলাকায় অল্প বয়সেই বেশির ভাগ মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়।কারো ক্লাস নাইনে কারো টেন এ আবার এস.এস.সি দেয়ার পর পরই। কেউ পড়তে চাইলে বলা হয় বিয়ের পর তো চুলা ই গুতাতে হবে।পড়ে লাভ কি? আবার কেউ কেউ বলে,বিয়ের পর বর পড়ালে তখন পড়বি।এখন আর পড়ালেখা করতে হবেনা।

বাবা মা ই যদি এমন কথা বলে তাহলে সন্তানের মুখ বুঝে বিয়ে করে নেয়া ছাড়া আর কোন কিছু বলার থাকেনা। তাছাড়া বাবা মা ই বা শিক্ষার মূল্য কিভাবে বুঝবে,কারণ তারা তো আর পড়ালেখা করেন নি।গ্রামের সবাই ই কম পড়ালেখা জানা।কেউ কেউ নাম টাও লিখতে পারেনা।আবার কেউ কেউ শুধু নাম টাই লিখতে পারে। আর নিউ জেনারেশনের কিছু কিছু ছেলে পেলে পড়াশোনা করছে সবে মাত্র।

এখানে বিদেশে থাকা ছেলেদেরই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।এজন্য সবাই বিদেশে যাবার জন্যই উঠে পড়ে লাগে।তাই আর পড়ালেখা তেমন তাদের হয়ে উঠেনা। হাতে গুনা কিছু পরিবারের ছেলে পেলে পড়াশোনা করে। আর মেয়েদের তো একটু বড় হলেই বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। তাই শিক্ষিত মেয়েও গ্রামে খুবই কম।

এস.এস.সি পাশ করার পর বাবা মাকে জোর দিয়ে বললাম আমি পড়াশোনা করবো। আর তারা রাজিও হলেন। আব্বুর নাকি ছোট বেলা থেকেই খুব ইচ্ছে ছিলো পড়াশোনা করার।কিন্তু দাদা দাদী পড়ার টাকা দেননি বলে পড়তে পারেননি। তাই তিনি আমার ইচ্ছেটার মূল্য দিয়েছেন। আব্বু আমাকে কলেজে ভর্তি করে দেন।

আমি পড়তে থাকি। আমাদের এলাকার কোন মেয়েই আমার সাথে পড়েনা।তাই আমার কলেজে একাই যেতে হয়। প্রতিদিন একা একাই কলেজে যাই।পড়াশোনার দিকে খুব মনোযোগ আমার। উদ্দেশ্য ,নিজের পায়ে দাঁড়াবো। শীতের সকাল। কুয়াশায় ঢাকা চারিপাশ।কিচ্ছু দেখা যায়না দূর থেকে। একদিন আমি প্রাইভেট পড়তে স্যারের বাসায় যাচ্ছিলাম।

আর তখনই দেখি একটা ছেলেও শীতের মধ্যে কাঁপতে কাঁপতে কলেজ ড্রেস পড়ে যাচ্ছে। এরপর থেকে প্রতিদিন আমি বাসা থেকে বের হয়ে একটু দূরে গিয়ে দেখি বিভোর দাঁড়িয়ে আছে ওদের বাসা থেকে একটু সামনে। তারপর আমরা দুজন এক সাথে প্রাইভেট পড়তে যাই,কলেজে যাই,ক্লাস করি। এর মধ্যে এলাকার কেউ কেউ অনেক কিছুই বলা শুরু করে দেয়।

কিন্তু বিভোর সবাইকে বলে যে আমরা এক সাথে পড়ি,আর আমরা বন্ধু। এর বাইরে আমাদের আর কোন সম্পর্ক নেই। বিভোর দেখতে স্মার্ট,হ্যান্ডসাম।বয়সে আমার থেকে তিন বছরের বড়। ছেলে মানুষ,দেরিতে স্কুলে ভর্তি হওয়ায় আমার সাথে পড়ে এখন। আমাদের মাঝে খুব ভালো একটা সম্পর্ক হয়ে যায়।দুজন এক সাথে ইন্টার পাশ করি।

এক্সামের সব সাজেশন আমার ওকে জোগাড় করে দিতে হয়েছে। ওর বাবা মা আমাদের বন্ধুত্বের কথা জানেন। আর আমার বাবা মাও।পরবর্তীতে জানতে পারি আমার আব্বু আর ওর আব্বু খুব ভালো বন্ধু।তাই তারাও আমাদের বন্ধুত্ব টাকে ইজিলি মেনে নেন। রেজাল্ট দেয় আমাদের।আমি এ গ্রেড পাই আর ও বি গ্রেড।

Reply