করোনা আক্রান্তদের সুস্থতার হার কম

করোনা আক্রান্তদের সুস্থতার হার কম এতে আক্রান্ত রোগীর অনুপাতে সুস্থতার হার দ্রম্নত কমছে। শনিবার পর্যন্ত দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮২ জন এবং সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ৩৬ জন। এই হিসাবে সুস্থতার হার ৭.৪৬ শতাংশ। অথচ বিশ্বের অনেক অনুন্নত দেশও এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চেয়ে বেশখানিকটা এগিয়ে রয়েছে।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন (সিএনএইচসি) ও ওয়াল্ডওমিটার ডটইনফো’র দেয়া করোনার আপডেট তথ্য পর্যালোচনায় এই হিসাব পাওয়া গেছে। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই ভাইরাসে আক্রান্ত বিশ্বের ২২০টি দেশের মধ্যে রোগীর সুস্থতার হারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থানে একেবারে শেষের সারিতে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, করোনায় আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে ওঠার হার দেশে এই ভাইরাসটির স্প্রেডিং টাইমে আরও বেশখানিকটা কমে যাবে। কেননা, এ সময় রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। যদিও একটি নির্দিষ্ট সময় পর এতে স্থিতাবস্থা আসবে। এ অবস্থায় সুস্থতার হার পবৃদ্ধি পাবে।

চীনসহ বিশ্বের যেসব দেশে জানুয়ারি-ফেব্রম্নয়ারি মাস থেকে এই রোগের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে, সেখানকার পরিসংখ্যান তথ্যে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সিএনএইচসি-এর ১১ এপ্রিলের আপডেট তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ দিন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লাখ তিন হাজার ১৭৭ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৭ হাজার ৩১৪ জন। এই হিসাবে সুস্থ হওয়ার হার ৫.৪২ শতাংশ।

স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৬১ হাজার ৮৫২ এবং সুস্থ হয়েছেন ৫৯ হাজার ১০৯ জন। সুস্থতার হার ৩৪.৬৬ শতাংশ। ইতালিতে আক্রান্ত এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৭৭ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৩০ হাজার ৪৫৫ জন, সুস্থতার হার ২০.৬৩ শতাংশ। জার্মানিতে এক লাখ ২২ হাজার ১৭১ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫৩ হাজার ৯১৩ জন, সুস্থতার হার ৪৪.১২ শতাংশ। ফ্রান্সে করোনায় আক্রান্ত এক লাখ ২৪ হাজার ৮৬৯ জনের মধ্যে ২৪ হাজার ৯৩২ জন সুস্থ; সুস্থতার হার ১৭.৬০ শতাংশ।

চীনে ৮১ হাজার ৯৫৩ জনের মধ্যে সুস্থ ৭৭ হাজার ৫২৫ জন; সুস্থতার হার ৯৪.৪০ শতাংশ। ইরানে আক্রান্ত ৬৮ হাজার ১৯২ জনের মধ্যে ৩৫ হাজার ৪৬৫ জন সুস্থ; সুস্থতার হার ৪০ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ৭৩ হাজার ৭৫৮ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৩৪৪ জন; সুস্থতার হার ০.২৬ শতাংশ। তুরস্কে ৪৭ হাজার ১৯২ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছে দুই হাজার ৪২৩ জন; সুস্থতার হার ৪.৩৮ শতাংশ।

সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৪ হাজার ৫৫১ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ১১০ জন; সুস্থতার হার ৩৭.১৯ শতাংশ। উলেস্নখিত এই চিত্র বিশ্বের যেসব দেশে ২০ হাজারের অধিকসংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ওইসব দেশে সুস্থ হওয়া রোগীর হিসাব দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে যেসব দেশে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত ওইসব দেশের অস্ট্রিয়ায় সুস্থতার হার ৪৪.৭১ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৮৬.১০ শতাংশ, ইসরাইলে ১১.৩৬ শতাংশ, রুশিয়ায় ৬.৬৭ শতাংশ, ব্রাজিলে .৮৬ শতাংশ, পর্তুগালে ১.৫০ শতাংশ। অন্যদিকে যেসব দেশে ৯ হাজার থেকে এক হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, এই তালিকায় থাকা ৪৫টি দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, চিলি, ডেনমার্ক, মালেয়শিয়া, সৌদি আরব, পেরু ও থাইল্যান্ডে সুস্থতার হার বেশি। এরমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় ৫০.৩৫, চিলিতে ২৪.১৬, ডেনমার্কে ২০.১৫, মালয়েশিয়ায় ৪২.১০, সৌদি আরব ১৮.৭৬, থাইল্যান্ডে ৪০.৯৬ পেরুতে ২৬.৬০ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশ ভারতে সুস্থতার হার ১০.১৮ শতাংশ।

এক হাজারের নিচে আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে বাহারাইনে সুস্থ হওয়া রোগী হার ৫৫.২১ শতাংশ, কুয়েতে ১২.৩৪, আজারবাইজানে ১৫.৭৪, হংকং-এ ৩১.২১, আরমেনিয়ায় ১৫.৯০, হোসনা অ্যান্ড হারজেগোভিনায় ১৪.৩১, ক্যামারুনে ১১.৯৫, লেবাননে ১২.৪৭, উরুগুয়েতে ৪৩.৩১, আলবেনিয়ায় ৪৩.৭৫, তাইওয়ানে ২৩.৮২, জর্ডানে ৪৫.৬৯, সান মেরিনোতে ১৪.৫৩, সেনেগালে ৫১.৬৯, ভিয়েতনামে ৫৬.০৩, জর্জিয়ায় ২৩.০৭, শ্রীলংকায় ২৭.৪১, ভেনিজুয়েলায় ৪৮, ব্রম্ননাইয়ে ৭২.৭৯ ও কম্বোডিয়ায় ৬২.৫ শতাংশ।

উলেস্নখিত পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় সহজেই বোঝা যায় উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়লেও সে অনুপাতে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা কম। যদিও বেশকিছু দেশে রোগীর সুস্থতার হার বাংলাদেশের চেয়েও কম রয়েছে। করোনায় আক্রান্ত রোগীর সুস্থতা সম্পর্কে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, এই ভাইরাসে আক্রান্ত সাধারণ রোগীরা ১৪ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়।

তবে যারা গুরুতরভাবে আক্রান্ত তাদের আরও বেশি সময় লাগে। অনেক সময় সুস্থ হতে ৬ সপ্তাহ সময়ও লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছে ৮ মার্চ থেকে। এই হিসাবে কেবল চতুর্থ সপ্তাহ পার হয়ে পঞ্চম সপ্তাহে পা রেখেছে। তাই এখনি রোগীর সুস্থতার হার নির্ণয় করার সময় আসেনি।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভিমত, দেশে এখন পর্যন্ত যে সংখ্যক রোগী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, তাদের একটি বড় অংশ গুরুতর অসুস্থ নন। সুতরাং আশা করা যায়, তারা দ্রম্নতই সুস্থ হয়ে উঠবেন।

Reply