আজ থেকে নাটকের শুটিং করতে পারবেন নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা

আজ থেকে শর্ত মেনে নিজ দায়িত্বে টিভি নাটকের শুটিং করতে পারবেন নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা। শুক্রবার রাতে টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ডিরেক্টরস গিল্ড, অভিনয় শিল্পী সংঘসহ সংশ্লিষ্ট আরও সংগঠনের নেতারা সম্মিলিতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেন।

শুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো সকল সংগঠনগুলো। তবে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এমন হটকারী সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিনয় শিল্পী ও সংশ্লিষ্টরা। বলছেন, চলমান মহামারিতে ঈদের আগে এই সিদ্ধান্ত মোটেই যৌক্তিক নয়। এমন সিদ্ধান্তে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম বলেন, আমি এখন শুটিংয়ে যাব না। তবে যারা এখনই শুটিং করতে খুব করে চাচ্ছেন তাদের জানাই ঈদ মোবারক।’

একইভাবে অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ বলেন, বেঁচে থাকলে অনেক শুটিং করতে পারব। এই মুহূর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমি শুটিং করছি না। তবে আমার মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর শুটিংয়ে যাওয়াই উত্তম।

কেউ কেউ আবার দুই দুইয়ে চার মেলাতে চাইছেন। বলছেন, একের পর এক সিনিয়র শিল্পীরা নিষেধাজ্ঞা ভেঙে শুটিং করায় সংগঠনগুলো নিজের পিঠ বাঁচাতেই এমন ঝুঁকি নিয়েছে। এদিকে বেশ কয়েকদিন ধরেই শুটিংয়ের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার জন্য নাট্যনির্মাতাদের একাংশ জোর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি অর্থনৈতিক সংকট এবং একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে অনেক তারকা এবং কলাকুশলীরাই সচেতন থেকে শুটিং করতে চান।

জানা গেছে, এ মুহূর্তে একটা পক্ষের হাতে ঈদে প্রচারের জন্য একশ থেকে দেড়শ নতুন নাটক আছে। অন্য পক্ষের হাতে ঈদে প্রচারের জন্য খুব বেশি নাটক নেই। যাদের হাতে ঈদের প্রচারের জন্য বেশি নাটক আছে, তারাই ঈদে একচেটিয়া ব্যবসা করার জন্য কোনোভাবেই চাচ্ছেন না ঈদের আগে শুটিং হয়ে নাটকের সংখ্যা বাড়ুক।

নাট্যনির্মাতাদের এমন মতবিরোধের মধ্যেই ছয় শর্তে শুটিংয়ের অনুমোদন দিয়েছে আন্তঃসংগঠনগুলো। শর্তগুলো হলো-

১. আন্তঃসংগঠনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাইডলাইন অনুসরণ করে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। (শুটিংবিষয়ক স্বাস্থ্যবিধির তথ্যাবলি স্ব স্ব সংগঠন থেকে সংগ্রহ করে সেই নিয়মে শুটিং করতে হবে।)

২. লকডাউনের সময় সরকারি সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমতি সংগ্রহ করে শুটিং করতে হবে। শিল্পী, কলাকুশলীরা শুটিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে কোনো ধরনের কাজ নিজ দায়িত্ব সম্পন্ন করবেন। এর সাথে আন্তঃসংগঠন বা স্ব স্ব সংগঠন কোনোভাবেই সম্পৃক্ত থাকবে না।

৩. শুটিং করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হলে, অথবা কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে আন্তঃসংগঠন বা স্ব স্ব সংগঠন কোনো দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করবে না। সংশ্লিষ্ট প্রযোজক, পরিচালক, অভিনয়শিল্পী, চিত্রগ্রাহক, রূপসজ্জাশিল্পীসহ ইউনিটের সবার উপর এই দায় বর্তাবে।

৪. করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ও আন্তঃসংগঠনের সিদ্ধান্ত ভালোভাবে অবগত হয়ে যারা শুটিং করতে আগ্রহী সেইসব শিল্পী, কলাকুশলী, প্রযোজক স্ব স্ব সংগঠনের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বরাবর এই মর্মে খুদে বার্তা অথবা ইমেইল পাঠাবেন যে, ‘আমি এই দুর্যোগে আন্তঃসংগঠনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত হয়ে নিজ দায়িত্বে স্বেচ্ছায় শুটিংয়ে অংশগ্রহণ করছি। আমি সংকটে নিপতিত হলে এর দায়ভার সম্পূর্ণ আমার।’

৫. সরকার পরিস্থিতি বিবেচনায় যে ঘোষণা দেবেন সকলকে সেটা মেনে নিয়ে কাজ করতে হবে। অথবা কাজ? বন্ধ রাখার পরিস্থিতি উদ্ভব হলে তা বন্ধ করতে হবে। ৬. আন্তঃসংগঠন এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় যে কোনো সময় বাতিল করতে পারেন।

শর্তারোপ প্রসঙ্গে ডিরেক্টর গিল্ডের সভাপতি অভিনেতা-নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘??করোনা পরিস্থিতি বর্তমান সময়ে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফলে আন্তঃসংগঠনসমূহ এই সময়ে শুটিং সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও, সেটি রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।

কারণ, সরকার সাময়িকভাবে লকডাউন শিথিল করেছে। ফলে কিছুসংখ্যক শিল্পী কলাকুশলী প্রযোজক নাটক নির্মাণ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট সংগঠনে অনুরোধ করেন। তাদের জন্য আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কেউ চাইলে এই শর্তগুলো মেনে শুটিং করতে পারেন।

Reply