পণ্য বয়কটের পাশাপাশি ফ্রান্সের সকল সার্ভিস বয়কটের আহবান জাকির নায়েকের।

ডা. জাকির নায়েক হাফি. কোনোরকম ঘোরপ্যাঁচ না করে সোজাসুজি ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। কথা বলছেন স্ট্রেইট-কাট। আমরা পণ্য বয়কটের কথা বললেও তিনি পণ্য বয়কটের পাশাপাশি ফ্রান্সের যেকোনো সার্ভিস বা সেবা গ্রহণ থেকেও বিরত থাকতে আহবান জানাচ্ছেন। তিনি প্রায় একশত ফরাসী পণ্যের লিস্টও তাঁর ভেরিফাইড পেইজে প্রকাশ করেছেন।

ডাক্তার সাহেব ধরতে গেলে জাগতিক সব সম্পদ খুইয়েছেন। নিজের দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সবক’টি ইনিস্টিউটের মূল গেটে তালা। তিনি ইন্ডিয়ার মোস্ট ওয়ান্টেড আসামী। ভারত যেকোনো মূল্যে তাঁকে চায়। তিনি এখন আছেন মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক আশ্রয়ে। এই যে সমৃদ্ধ থেকে রিক্ত হয়েছেন, তা কীসের জন্য? কারণ তো শুধুই দ্বীন, আর কিছু কি আছে? জানামতে নেই।

একটা ব্যাপার খুব ভালো করে খেয়াল রাখবেন। যে বা যারাই শুধুমাত্র দ্বীনের কারণে মুশরিক-মুনাফিকদের রোষানলে পড়ে পুড়ে ছারখার হয়েছেন, তাদের অন্তরে পুষিত দ্বীনের মুহাব্বত ততই খাঁটি হয়েছে। তিনি বা তাঁরা ততোই দ্বীনের প্রতি আরও বেশি ঝুঁকতে পেরেছেন। খোঁড়া অজুহাত তাঁরা ছাড়তে পেরেছেন। বিভ্রান্তিকর ফতোয়া এবং নিজেদের অবস্থানকে বিধিসম্মত করার মানসে ইসলামের মনগড়া ব্যাখ্যা থেকে বাঁচতে পেরেছেন।

দ্বীন পালন করবেন অথচ বাধার সম্মুখীন হবেন না, তা হতে পারে না। কোনোকালেই দ্বীনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, এখনো হবে না। যারা সারাজীবন এসি রুমে বসে আরামে দ্বীন প্রচার করতে চান তাদের ভেতরে তাদের অজান্তে মুনাফেকি মনোভাব তৈরী হয়। যেটা তারাও অনুভব করতে পারেন না। আল্লাহ মাফ করুন।

যা বলতে চাচ্ছিলাম, পিস টিভির মালিক শাসকের অনুমতির অপেক্ষা না করে ফ্রান্সের পণ্য এবং সার্ভিস বয়কটের ডাক দিতে পারলেও সেই একই টিভিতে বয়ান রাখার সুবাদে যারা মাদানী শায়েখ হয়েছেন তারা এসি রুমে বসে শাসকের অনুমতিপত্রের জন্য বসে আছেন। এমন ব্যক্তিস্বার্থপর শায়েখদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। আমাদেরকে দ্বীনের পথে যারা নির্যাতিত, নিপীড়িত, নিগৃহীত, মোস্ট ওয়ান্টেড এবং বিতাড়িত হয়েছেন বা হচ্ছেন তাঁদের থেকে সবরের সবক নিতে হবে। পৃথিবীর সবকিছু থেকে, সব অর্জন থেকে দ্বীনের নবীকে বেশি ভালোবাসার প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন, “যাদের কাছে আমি দুনিয়ার সবকিছু থেকে সবচেয়ে প্রিয় হব তারাই ঈমানের প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে।”

ইসলাম ধর্ম ও বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বেশ কয়েকটি আরব বাণিজ্য সমিতি ফরাসি পণ্য বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।

সেই ধারাবাহিকতায় এবার ফরাসি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানালেন ভারতীয় বংশদ্ভুত জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা ড. জাকির নায়েক। ড. জাকির বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।  

চলতি মাসের শুরুতে ম্যাক্রোঁ ‘ইসলামপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদ’ বিরোধী লড়াইয়ের নামে ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করার জেরে আরবজুড়েই ফরাসি পণ্য বর্জনের হিড়িক পড়েছে।

ম্যাক্রোঁ বিশ্বব্যাপী ইসলামকে একটি ‘সংকটের’ ধর্ম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন বন্ধ করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। বিশ্বনবীকে নিয়ে একটি বিতর্কিত কার্টুন দেখানোর জেরে খুন হওয়া ফরাসি শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটিকে সম্মান জানাতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেছেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গ্রুপ থেকে আরব দেশ এবং তুরস্কের সুপারমার্কেট থেকে ফরাসি পণ্য বর্জন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কুয়েতে আল-নাইম সমবায় সমিতির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ফরাসি সব পণ্য বর্জন করার এবং সেগুলো সুপারমার্কেট থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দাহিয়াত আল-থুহর সমিতি একই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বলেছে, ‘ম্যাক্রোঁর অবস্থান এবং আমাদের প্রিয় নবীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর কার্টুনের পক্ষে তাঁর সমর্থনের ভিত্তিতে, আমরা ফরাসি সব পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

কাতারে ওয়াজবাহ ডেইরি সংস্থা ফরাসি পণ্য বর্জনের ঘোষণা করেছে এবং বিকল্প সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কাতারের যৌথ স্টক সংস্থা আল মিরা কনজিউমার গুডস সংস্থা টুইটারে ঘোষণা করেছে, ‘আমরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের তাক থেকে তৎক্ষণাত ফরাসি পণ্য প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ও এই প্রচারে অংশ নিয়েছে। টুইটারে এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, ‘ইসলামী বিশ্বাস, পবিত্রতা এবং প্রতীকগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো কুসংস্কার সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য, কারণ এই অপরাধ সর্বজনীন মানবিক মূল্যবোধ এবং উচ্চতর নৈতিক নীতিকে ক্ষতি করে।’

উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল (জিসিসি) ম্যাক্রোঁর বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে, তাদের লক্ষ্য মানুষের মধ্যে ঘৃণার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া।

এনটিভি

4 Comments

Reply