অন্যের ফসল খেয়ে গরুর অপরাধে ১৫ পরিবার অবরুদ্ধ!

বাগেরহাটের শরণখোলায় গরুতে কলাই ক্ষেত খাওয়ার অপরাধে যাতায়াত রাস্তা আটকে ১৫ পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। গত ৫ দিন ধরে এ অবস্থায় থাকলেও দরিদ্র ওই পরিবারগুলোর সহায়তায় কেউ এগিয়ে আসেনি।

এ ঘটনাটি ঘটেছে শরণখোলা উপজেলার মধ্য খোন্তাকাটা গ্রামে। ওই গ্রামের জোরদার আনোয়ার জমাদ্দার,ও ইসমাইল জমাদ্দার এ অমানবিক কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও ১ মার্চ রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন প্রতিকার হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ি থেকে যাতে কেউ বেরোতে না পারে সে কারণে মূল রাস্তার সামনে থেকে সুপারি গাছ ও বাঁশের চটা দিয়ে প্রায় ১৫০ ফুট ঘিরে দেয়া হয়েছে। বেড়ায় বন্দী পরিবারগুলো অসহায়ের মতো বাড়ির মধ্যে অবরুদ্ধ অবস্থায় ঘোরাফেরা করছে। ভ্যানচালক আ. আজিজ কাজি (৫০) ও তার স্ত্রী শেফালী বেগম (৪৫) জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে মাঠ থেকে গরু আনার সময় তাদের একটি গরু দড়ি খুলে প্রতিবেশী আনোয়ার জমাদ্দারের কলাই (খেসাড়ি) ক্ষেতে ঢুকে পড়ে। তেমন কিছু নষ্ট করার আগেই শেফালী বেগম গরুটি আনতে গেলে আনোয়ার জমাদ্দার তাকে অকথ্য গালিগালাজ শুরু করে।

এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বেশ ঝগড়াঝাটি হয়। এ ঘটনার জের ধরে পরেরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে আনোয়ার জোমাদ্দার তার লোকজন নিয়ে এসে তাদের বাড়ির সীমানা ধরে রাস্তার পাশ থেকে বেড়া দিয়ে আটকে দেয়।

খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, রাস্তার জমি জমাদ্দারদের হলেও এ রাস্তায় বিভিন্ন সময় এডিপিসহ সরকারি বরাদ্দের টাকায় ইট সলিং করা হয়েছে। এটা এখন কারও ব্যক্তিগত রাস্তা নয়। এই রাস্তা দিয়ে সবার চলার অধিকার রয়েছে।

Reply