বাংলাদেশের মাশরাফী পেয়েছেন ইয়াং গ্লোবাল লিডারস স্বীকৃতি

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিষ্ঠান ইয়াং গ্লোবাল লিডারস ফোরাম এ বছর ১১২ জন ইয়াং গ্লোবাল লিডারের তালিকা প্রকাশ করেছে । আর এ তালিকায় একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ৪০ বছরের কম বয়সী সফল নাগরিক ও ব্যবসায় উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা,শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তি অগ্রগামী, সামাজিক কর্মী, শিল্পী, সাংবাদিকসহ তরুণ প্রজন্মের আলোকিত কিছু মুখকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার এই অর্জন নিঃসন্দেহে সমগ্র বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য তথা সমগ্র বাংলাদেশের জন্য গৌরবের ও সম্মানের। 

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান ক্লাউস সোয়াব ২০০৪ সালে ইয়াং গ্লোবাল লিডারস ফোরাম তৈরি করেছিলেন বিশ্বকে ক্রমবর্ধমান জটিল ও পরস্পরের উপর নির্ভরশীল সমস্যার মোকাবিলায় সহায়তার জন্য । তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি হলো, বিশ্বে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে দৃষ্টি, সাহস এবং প্রভাব নিয়ে ব্যতিক্রমী ব্যক্তিদের একটি গতিশীল বিশ্ব সম্প্রদায় তৈরি করা।

images 6

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মিশনের সাথে জড়িত ইয়াং গ্লোবাল লিডারস ফোরাম বিশ্ব জনস্বার্থে উদ্যোক্তা প্রদর্শনের জন্য এই অনন্য নেতাদের মাধ্যমে সরকারী-বেসরকারি সহযোগিতা জাগাতে চায়।

১০০ টিরও বেশি জাতীয়তার প্রতিনিধিত্বকারী,ইয়ং গ্লোবাল লিডারস এই বিশ্বাসের দ্বারা ঐক্যবদ্ধ যে আজকের জরুরি সমস্যাগুলি ক্ষেত্র, প্রজন্ম এবং সীমানা জুড়ে একটি আরো ভাল ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে নিয়ে বর্ণনায় প্রতিষ্ঠানটি যা উল্লেখ করেছে তার বাংলা অনুবাদ হুবহু তুলে ধরা হলোঃ

“মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা অধিনায়ক, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, বাংলাদেশ।

মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা একজন বাংলাদেশের ক্রিকেটার এবং বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে ওয়ানডে আন্তর্জাতিক অধিনায়ক। অবসর অবধি তিনি টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ছিলেন। তিনি তিনটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ক্রিকেটকে বাদ দিয়ে, তিনি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তার শহর নড়াইলের দারিদ্র্যের জাল থেকে মানুষকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন চালু করেছিলেন, যা ছয়টি লক্ষ্য অর্জন করতে কাজ করছেঃ নাগরিকদের জন্য আধুনিক সুবিধাদি এবং একটি বিশেষ শিক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করা, নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা,কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা,সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপ বাড়ানো,ক্রীড়া প্রশিক্ষণ প্রদান,চিত্রা নদীকে ঘিরে একটি পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করা এবং নড়াইলকে একটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং পরিবেশ বান্ধব শহরে রূপান্তরিত করা।

সমগ্র বিশ্বকে মোট ১৩ টি অঞ্চলে ভাগ করে ইয়াং গ্লোবাল লিডারস ফোরাম তালিকাটি প্রকাশ করেছে। যার মধ্যে এবছর দক্ষিণ এশিয়া থেকে ১০ জন,আফ্রিকা থেকে ৯ জন, এশিয়ান ৯ জন, অস্ট্রেলিয়া ও ওশেনিয়া থেকে ২ জন, জাপান থেকে ১ জন,কোরিয়া ও উত্তর এশিয়া থেকে ৩ জন,লাতিন আমেরিকা থেকে ৯ জন,মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা থেকে ১৩ জন,ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে ১ জন, ইউরেশিয়া থেকে ২ জন, ইউরোপ থেকে ২৩ জন, গ্রেটার চায়না থেকে ৯ জন, এবং উত্তর আমেরিকা থেকে ২০ জন ইয়াং গ্লোবাল লিডারকে স্বীকৃতি দিয়েছে।দক্ষিণ এশিয়ার ১০ জনের মধ্যে ৭ জন ভারতীয়, ১ জন পাকিস্তানি, ১ জন নেপালী এবং বাংলাদেশের মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।

প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং গোষ্ঠী  থেকে আসা ৪০ বছরের কম বয়সী উল্লেখযোগ্য নেতাদের সনাক্ত, নির্বাচন এবং তাদের স্মরণে কঠোর নির্বাচন প্রক্রিয়া চালায় ইয়াং গ্লোবাল লিডারস ফোরাম । এই তরুণ নেতারা আমাদের আজকের সময়ের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা উদাহরণ দিয়ে দেখান এবং তারা আশা, সহানুভূতি, সত্যতা এবং সমাধানের বিকাশ ঘটান যা বিশ্বকে আরো উন্নত করতে পারে। 

জেনে রাখা ভাল, কয়েক বছর আগে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ ইয়াং গ্লোবাল লিডারস তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন।

Reply