বাড়ছে ভোজ্যতেল ও সবজির বাজার দাম

চালের পর সপ্তাহের ব্যবধানে অস্থির হয়ে ওঠেছে ভোজ্যতেলের দাম। আগের সপ্তাহে ৯৪ থেকে ৯৬ টাকা লিটার বিক্রি হওয়া খোলা হয়াবিন আজ বৃহস্পতিবার দাম বেড়ে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে কোথাও কোথাও। উৎপাদন পর্যায়ে সবজির দাম তলানিতে নামলেও রাজধানীতে সেই সবজিই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।

বৃহস্পতিবার সবজির দাম দেখা গেছে আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি। এছাড়া চাল, ডাল চিনি ও মাংস বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামেই। বিক্রিতারা ক্রেতা কম থাকায় সরবরাহ সংকটের অজুহাত দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার মুগদা, মালিবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া যায়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির মধ্যে আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ টাকা, টমোটে ৩০ টাকা, সিম ৪০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, পেপে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে আলু ছাড়া সবধরণের সবজির দামই ১০ থেকে ১৫ টাকা কম ছিল। এছাড়া বাধাকপি ৪০ টাকা, ফুল কপি ৪০ টাকা, লেবু মাঝারি ৮ থেকে ১০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। শাকের দাম কিছুটা কম রয়েছে। পুইশাক ২০ টাকা ও লালশাক ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

পেয়াজের দাম আগের মতোই রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাজারগুলোতে দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রসূনের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংসের দাম কমেনি চলতি সপ্তাহেও। বৃহস্পতিবারও গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকায়। রোজার আগে কমার সম্ভাবনাও নেই বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

মুগদা কাঁচাবাজারের মাংস ব্যবসায়ী মো. সালাম বলেন, এখন বিক্রি কম তাই গরু আসছে কম। এছাড়া পরিবহন সংকটও রয়েছে। ফলে মাংসের দাম কমার সম্ভবনা নেই। এছাড়া খাসির মাংস এখন বাজারেই নেই বলেও জানান তিনি। কম দামেই বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। ব্রয়লার মুরগির ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম কমে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা ডজনে নেমেছে। আগের সপ্তাহে ১০৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন। হাসের ডিম ১২০ টাকা ডজন।

চাল ডালের দাম আগের বাড়তি দামে বিক্রি হলেও। নতুন করে বেড়েছে সয়াবিনের দাম। গত দুই দিনে লিটারে বেড়েছে খোলা সয়াবিনের দাম। এছাড়া সপ্তাহের শুরু থেকেই দাম বাড়ছিল পণ্যটির। ফলে সপ্তাহজুড়ে ৪ থেকে ৬ টাকা বেড়ে খোলা সয়াবিন এখন ৯৮ থেকে ১০০ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহেও পণ্যটির ২ টাকা বেড়ে ৯৪ থেকে ৯৬ টাকা বিক্রি হচ্ছিল। তবে কিছুটা কমেছে পাম তেলের দাম। ৭৫ টাকা থেকে ২ টাকা কমে ৭৩ টাকা আর ৮০ টাকা থেকে ৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পাম তেল। সয়াবিনের এক লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা। মশুর ডাল বড় দানা ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, আর ছোট দানা ১০০ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে আদা, রসূন, শুকনা মরিচ, সয়াবিন, চাল, ডালসহ ৮টি পণ্যের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে আলু, ডিমসহ ৪টি পণ্যের।

এদিকে বৃহস্পতিবারও টিসিবির পণ্য বিক্রি হয় রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে। এদিনও পণ্যের চাহিদা ছিল ব্যপক। বেশি চাহিদা ছিল সয়াবিন তেলের। এছাড়া চিনি ও ডালও নিতে দেখা গেছে অনেককে।

সূএঃ কালেরকন্ঠ প্রতিবেদক।

Reply