লাজুক দিশা পর্দার অন্তরালে

হাতে গোনা মাত্র কয়েকটা ছবি করেছেন দিশা পাটানি। কিন্তু এরই মধ্যে এই বলিউড সুন্দরীর অনুরাগীর সংখ্যা অনেক। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সাহসী ছবি রীতিমত ঝড় তোলে। ক্যারিয়ার ছাড়া ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও চর্চিত দিশা। টাইগার শ্রফের সঙ্গে তাঁর রোমান্সের কথা বিটাউনের অলিতে গলিতে কান পাতলেই শোনা যায়। এবার এই বলিউড কন্যা আবার আলোচনায় উঠে এলেন তাঁর আগামী ছবি মালাঙ্গ-কে ঘিরে। থ্রিলার-রোমান্টিক ঘরানার এই ছবিতে দিশার বিপরীতে আছেন আদিত্য রায় কাপুর। পর্দায় তাঁদের প্রেম জমে ক্ষীর। মোহিত সুরীর পরিচালিত এই ছবিতে কাজ করতে পেরে দারুণ উচ্ছসিত দিশা।

মুম্বাইয়ের আন্ধেরির ‘লাভ ফিল্মস’-এর অফিসে আড্ডার শুরুতেই এই বলিউড নায়িকা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আমি থ্রিলার ঘরানা খুব পছন্দ করি। তাই এই ছবিতে কাজ করার সুযোগ পেয়ে দারুণ লাগছে’। মালাঙ্গ ছবিতে অনিল কাপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে। অনিল কাপুরের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও দিশার জন্য বড় পাওয়া। এক রাশ হাসি নিয়ে তিনি বলেন, ‘অনিল কাপুর আমার ভীষণ প্রিয় অভিনেতা। তাঁকে দেখলেই আমার মিস্টার ইন্ডিয়া ছবির কথা মনে পড়ে। আমার মনে হয় প্রতি দিনই তাঁর বয়স ক্রমশ কমছে। খুব চেষ্টা করেছিলাম অনিল স্যরের এই রহস্য খুঁজে বার করার। কিন্তু আমি ব্যর্থ হয়েছি। কিছুতেই জানতে পারিনি তাঁর ফিটনেস রহস্য। অনিল স্যার এত বড় স্টার হয়েও একদম বিনয়ী। আজও তিনি কত পরিশ্রমী ও প্রাণবন্ত!’

মোহিত সুরীর এই ছবিতে দিশা এবং আদিত্যকে বেশ কিছু ‘অ্যাডভেঞ্জার স্পোর্টস’–এ অংশ নিতে দেখা গেছে। আর এইসব কিছুর জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় পাননি তাঁরা। এ প্রসঙ্গে দিশা বলেন, ‘আমি অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস ভালবাসি। তবে উঁচু থেকে লাফ দিতে ভয় পাই। এই ছবিতে সেটাও করেছি। পাহাড়ের ওপর থেকে জলে ঝাঁপ দিয়েছি। কাইট সার্ফিং, আন্ডার ওয়াটার অনেক কিছুই করেছি। সন্ধ্যে ছয়টা থেকে ভোর ছয়টা টানা ১২ ঘণ্টা পানির নিচে কাটিয়েছি। আর এই সবকিছুতেই রীতিমত প্রাণের ঝুঁকি ছিল।

আদিত্যকে সহঅভিনেতা হিসেবে পেয়ে ভীষণ খুশি দিশা। আদিত্যর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আদিত্য আর আমি খুব মজা করে কাজ করতাম। আমরা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করতাম। ওর সঙ্গে কাজ করে দারুণ লেগেছে। অভিনেতা হিেসবেও আদিত্য খুব ভালো।’

এমএস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি, বাগী টু ছবিতে অভিনয় করে দিশা ধীরে ধীরে বলিউডে নিজের জমি শক্ত করেছেন। তবে সালমান খানের ভারত ছবিতে অভিনয় করে রাতারাতি আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। এই ছবিতে তাঁকে ছোট একটা চরিত্রে দেখা গিয়েছিল। দিশা সবচেয়ে নজর কাড়েন ভারত ছবির এক আইটেম গানে। বলিউডের ভাইজানও তাঁর নাচের প্রশংসা করেন। সালমানের পরবর্তী ছবি রাধে-তে দিশাকে মূল চরিত্রে দেখা যাবে। সালমানের সঙ্গে কাজ করার অভিঞ্জতা প্রসঙ্গে এই বলিউড নায়িকা বলেন, ‘সালমানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা দুর্দান্ত। তিনি এত বড় সুপারস্টার হয়েও সেটে সবার খবর নিতেন। সেটে নিজের বাড়িতে তৈরি খাবার সবাইকে খাওয়াতেন। সবাই ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছে কি না, সেদিকেও তাঁর সমান নজর থাকত। এত বড় স্টার হয়েও সাধারণভাবে মিশতেন।’

নিজের এই ছোট্ট ফিল্মি সফর ঘিরে খুবই খুশি দিশা। তিনি মনে করেন, তাঁর এই সফর বৈচিত্র্যে ভরা। উত্তরপ্রদেশের ছোট্ট শহর ‘বরেলি’ থাকতেন দিশা। এই শহর থেকেই উঠে এসেছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তাই প্রিয়াঙ্কা তাঁকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করে। দিশা বলেন, ‘আজ প্রিয়াঙ্কা শুধু বলিউডে নয়, হলিউডেও নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। আর হলিউডে কাজ করা মোটেও সহজ কথা নয়। তাই প্রিয়াঙ্কা আমাকে খুবই উদ্বুদ্ধ করেন।’ ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে হামেশাই যে আলোচনায় আসেন তিনি, এসব নিয়ে খুব একটা ভাবেন না। আলতো হাসি ঠোঁটে ধরে রেখে বলেন, ‘প্রিন্স হ্যারি আর মেগান ছাড় পায় না। সেখানে আমি তো কিছুই নই। আমি সোশ্যাল মিডিয়াকে গুরুত্ব দিই না। শুধু নিজের কাজটা মন দিয়ে করে যেতে চাই। কাজ দিয়ে সকলের মন জয় করতে চাই।’

পর্দায় সাহসী হলেও আদতে দিশা খুবই লাজুক। সবার সঙ্গে সহজে মিশতে পারেন না। বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি লাজুক প্রকৃতির। স্কুলে একদম শেষ বেঞ্চে বসতাম। অনেকে আমাকে নিয়ে মজা করত। আর আমার বোন গিয়ে তাদের মেরে আসত।’ আজও এই ইন্ডাস্ট্রিতে দিশার বন্ধুর সংখ্যা খুবই কম। সাদামাটা জীবনে বিশ্বাসী তিনি। ছোট ছোট জিনিসের মধ্যে দিশা নিজের আনন্দ খুঁজে নেন। নিজের কাজ, ওয়ার্ক শপ, নাচ এসব নিয়ে তিনি নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। কাজ শেষ হয়ে গেলে বাড়ি ফিরে চার পোষ্যর সঙ্গে সময় কাটান তিনি। এর বাইরে তাঁর কোনো জগত নেই।

Reply